📍 ঢাকা 📅 রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩
শিরোনাম:
সারাদেশ
ড্রেনে বর্জ্যের স্তূপ, জলাবদ্ধতায় দুর্ভোগে সাধারণ মানুষ
✎ ফয়সাল আহমেদ
⏲ প্রকাশিত: শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, ৯:৫৫ পিএম  (ভিজিটর : )


গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার মাওনা চৌরাস্তায় জলাবদ্ধতার অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে উঠেছে অপরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও দীর্ঘদিন ধরে ড্রেন পরিষ্কার না করা।

মহাসড়কের দুই পাশের ড্রেনগুলো ময়লা-আবর্জনা, পলিথিন ও বিভিন্ন বর্জ্যে ভরাট হয়ে থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই ড্রেনের পচা ও দুর্গন্ধযুক্ত পানি উপচে সড়কে উঠে আসে। এতে একদিকে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে জনস্বাস্থ্যের জন্যও ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, মাওনা চৌরাস্তা ও আশপাশের মার্কেট, দোকানপাট, বাসাবাড়ি এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের তরল বর্জ্য বছরের পর বছর ধরে এসব ড্রেনে ফেলা হচ্ছে। অনেক স্থানে বাসাবাড়ির ব্যবহৃত পানির লাইন এবং টয়লেটের সংযোগও ড্রেনের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। ফলে ড্রেনগুলো কার্যত খোলা বর্জ্যাধারে পরিণত হয়েছে।

শুক্রবার সকালে টানা বৃষ্টির পর মাওনা চৌরাস্তায় বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। ড্রেন দিয়ে পানি নামতে না পারায় কালো ও দুর্গন্ধযুক্ত পানি মহাসড়কে ছড়িয়ে পড়ে। এতে যানবাহন ধীরগতিতে চলাচল করতে বাধ্য হয় এবং দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।

সরেজমিনে দেখা যায়, ড্রেনের ভেতরে জমে থাকা প্লাস্টিক, পলিথিন, পচনশীল বর্জ্য ও কাদা পানির স্বাভাবিক প্রবাহ প্রায় বন্ধ করে দিয়েছে। কোথাও কোথাও ড্রেনের অস্তিত্বই ময়লার স্তূপের নিচে চাপা পড়ে গেছে। বৃষ্টি হলেই এসব ড্রেন উপচে নোংরা পানি সড়কে চলে আসে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী বিল্লাল হোসেন বেপারী বলেন, “ড্রেনের পানির সঙ্গে শুধু বৃষ্টির পানি নয়, বিভিন্ন বর্জ্য ও টয়লেটের নোংরা পানিও মিশে থাকে। ফলে সড়কে ছড়িয়ে পড়া পানিতে তীব্র দুর্গন্ধ সৃষ্টি হয়। এতে ডায়রিয়া, চর্মরোগসহ বিভিন্ন রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।”

স্থায়ী বাসিন্দা আহসান কবির বলেন, “ড্রেনগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করা হলে এত সমস্যা হতো না। দোকানপাটের ময়লা, বাজারের বর্জ্য ও বাসাবাড়ির নোংরা পানি সবকিছুই ড্রেনে ফেলা হচ্ছে। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই পুরো এলাকা নোংরা পানিতে তলিয়ে যায়।”

এদিকে সম্প্রতি শ্রীপুর পৌর প্রশাসন ড্রেন পরিষ্কারের কাজ শুরু করেছে। তবে ড্রেন থেকে তোলা ময়লা-আবর্জনা মহাসড়কের পাশেই স্তূপ করে রাখায় নতুন করে সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বৃষ্টির পানিতে এসব বর্জ্য গলে কাদায় পরিণত হয়ে আবার ড্রেনে ফিরে যাচ্ছে। ফলে ড্রেন পরিষ্কারের সুফলও মিলছে না। পাশাপাশি মহাসড়কের পাশে পচা বর্জ্যের দুর্গন্ধে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে।

শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক মো. নাহিদ ভূঞা বলেন, “মাওনা চৌরাস্তার জলাবদ্ধতা দীর্ঘদিনের সমস্যা। ড্রেন থেকে তোলা ময়লা-আবর্জনা অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তবে বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির কারণে কিছুটা জটিলতা তৈরি হচ্ছে। ইতোমধ্যে ফ্লাইওভার ও ব্রিজের নিচে জমে থাকা বর্জ্য অপসারণের কাজ চলছে। সমস্যা স্থায়ীভাবে সমাধানে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে।”

এসআর
আরো দেখুন

Published by the Editor on behalf of the Observer Ltd. from Globe Printers, 24/A, New Eskaton Road, Ramna, Dhaka.
E-mail: district@dailyobserverbd.com, news@dailyobserverbd.com, advertisement@dailyobserverbd.com, For Online Edition: mailobserverbd@gmail.com
🔝