গাজীপুর জেলার কাপাসিয়া উপজেলার টোক ইউনিয়নের কাশেরা গ্রামের একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারবিহীন এ সড়কটি বর্ষা মৌসুমে কাদা ও জলাবদ্ধতায় চলাচলের প্রায় অযোগ্য হয়ে পড়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কাশেরা সৈয়দ আলী মেম্বারের বাড়ি থেকে কাশেরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় হয়ে ডুমদিয়া বাজার ও পাঁচুয়া বাজার পর্যন্ত সংযোগকারী সড়কটি প্রায় ৬০ বছর ধরে অবহেলিত অবস্থায় রয়েছে।
এ সড়ক ব্যবহার করে প্রতিদিন কাশেরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ডুমদিয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও পাঁচুয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের শত শত শিক্ষার্থী যাতায়াত করে। কিন্তু বর্ষা মৌসুমে রাস্তা কাদা-পানিতে একাকার হয়ে যাওয়ায় শিক্ষার্থীদের স্কুলে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। অনেক সময় পিছলে পড়ে আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
কাশেরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী জানায়, “বর্ষা হলে রাস্তায় হাঁটাই কষ্টকর হয়ে যায়। বই-খাতা নিয়ে ঠিকমতো স্কুলে যেতে পারি না।”
ডুমদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী বলে, “সাইকেল চালানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। অনেক সময় কাদা-পানিতে পড়ে গিয়ে জামা-কাপড় নষ্ট হয়ে যায়।”
পাঁচুয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী জানায়, “এই রাস্তা আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় সমস্যা। জরুরি প্রয়োজনে দ্রুত কোথাও যাওয়া যায় না।”
শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দারাও অভিযোগ করেন, হাট-বাজারে যাতায়াত, চিকিৎসাসেবা গ্রহণ এবং কৃষিপণ্য পরিবহনে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। বিশেষ করে রোগী ও গর্ভবতী নারীদের হাসপাতালে নেওয়ার ক্ষেত্রে মারাত্মক সমস্যার সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা সজল প্রধান অভিযোগ করে বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে জনপ্রতিনিধিদের কাছে রাস্তা সংস্কারের দাবি জানানো হলেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফলে বছরের পর বছর একই দুর্ভোগে বসবাস করতে হচ্ছে এলাকাবাসীকে।”
শরিফ মমতাজ উদ্দিন আহম্মদ ডিগ্রি কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ ও বিশিষ্ট সমবায়ী মোহাম্মদ তাজউদ্দিন বলেন, টোক ইউনিয়নের সবচেয়ে পুরোনো এই সড়কটি প্রায় ৬০ বছরেরও বেশি সময় ধরে অবহেলিত অবস্থায় রয়েছে। তাঁর মতে, চারটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং হাজারো মানুষের চলাচলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি দ্রুত সংস্কার করে পাকা করা জরুরি।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) কাপাসিয়া উপজেলা প্রকৌশলী সোহেল রানা বলেন, “কাশেরা গ্রামের সড়কটির বিষয়ে আমরা অবগত আছি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে এবং চলমান উন্নয়ন পরিকল্পনার আওতায় দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করা হবে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে সড়কটির সংস্কারকাজ বাস্তবায়ন করা হবে।”
এনএস/আরএন