📍 ঢাকা 📅 রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩
শিরোনাম:
সারাদেশ
জলঢাকায় স্বাস্থ্যসেবার বেহাল দশা: তীব্র জনবল সংকট
✎ অবজারভার সংবাদদাতা
⏲ প্রকাশিত: শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, ১২:৩৬ পিএম  (ভিজিটর : )

নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বর্তমানে ১১ জন চিকিৎসক দিয়ে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম চলছে। শরীর পরীক্ষার বিভিন্ন মেশিনও নষ্ট হয়ে পড়েছে।

উপজেলার প্রায় ৫ লাখ এবং পার্শ্ববর্তী ডিমলা ও কিশোরগঞ্জ উপজেলার মানুষের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ৩১ শয্যার হাসপাতালটি ১৫ বৈশাখ ১৩৮১ বঙ্গাব্দে প্রতিষ্ঠিত হলেও বর্তমানে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা প্রতিনিয়ত ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন চিকিৎসক ও জনবল সংকটের কারণে।

বৃহস্পতিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি জনবল সংকটসহ বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত হওয়ায় সাধারণ মানুষ চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। পুরাতন ভবনে ৩১ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ২০১২ সালের ১৭ জানুয়ারি নতুন ভবনে স্থানান্তর করা হয় এবং ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। তবে ৫০ শয্যায় উন্নীত হলেও সে তুলনায় কোনো জনবল ও বরাদ্দ পাওয়া যায়নি।

৫০ শয্যা বিশিষ্ট এই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিদিন শত শত রোগী বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসেন। তবে উপজেলায় প্রায় ৫ লাখ এবং পার্শ্ববর্তী উপজেলার মানুষের জন্য মাত্র ১১ জন চিকিৎসক দিয়ে সেবা দিতে গিয়ে চিকিৎসকেরা হিমশিম খাচ্ছেন। পাশাপাশি শরীরের বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার যন্ত্রপাতি, বিশেষ করে এক্স-রে মেশিনটিও নষ্ট হয়ে আছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভাসহ পার্শ্ববর্তী দুই উপজেলার প্রায় ৪ থেকে ৫ লাখ মানুষ এই হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা নিতে আসেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালটি প্রথম শ্রেণির বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকসহ তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির জনবল সংকটে ভুগছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার যন্ত্রপাতি ও এক্স-রে মেশিনও অকেজো হয়ে পড়ে আছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ২০১২ সালে নতুন ভবনে ৫০ শয্যায় উন্নীত হওয়ার পর এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মোট মঞ্জুরিকৃত পদ ২৪৯টি। এর মধ্যে কর্মরত আছেন ১৫৯ জন এবং শূন্য পদ ৯০টি।

প্রথম শ্রেণির চিকিৎসকের মোট মঞ্জুরিকৃত পদ ৩৩টি হলেও কর্মরত আছেন মাত্র ৯ জন। ফলে ২৪টি পদ শূন্য রয়েছে। চিকিৎসক সংকটের কারণে কর্মরত চিকিৎসকেরা রোগীদের সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন।

দ্বিতীয় শ্রেণির সিনিয়র স্টাফ নার্সের ২৫টি পদই পূর্ণ রয়েছে। তৃতীয় শ্রেণির ১০৪টি পদের মধ্যে কর্মরত আছেন ৫৯ জন, শূন্য রয়েছে ৪৫টি পদ। চতুর্থ শ্রেণির ২৮টি পদের মধ্যে ১৩ জন কর্মরত, শূন্য ১৫টি। মিডওয়াইফের ৮টি পদই পূর্ণ রয়েছে। সিএইচসিপির ৪৩টি পদের মধ্যে ৪২ জন কর্মরত, শূন্য ১টি। আউটসোর্সিংয়ের ৮টি পদে কোনো কর্মী নেই। পরিচ্ছন্নকর্মীর ৫টি পদের মধ্যে বর্তমানে ২ জন কর্মরত আছেন।

এছাড়া সার্জিক্যাল স্পেশালিস্টের পদ শূন্য থাকায় রোগীরা ব্যাপক ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। অত্যাধুনিক আল্ট্রাসনোগ্রাম ও এক্স-রে মেশিন দীর্ঘদিন ধরে অকেজো হয়ে পড়ে আছে। অর্থের অভাবে এগুলো মেরামত করা সম্ভব হচ্ছে না। ডেন্টাল ও চক্ষু বিভাগে চিকিৎসক থাকলেও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম নেই।

জনবল ও অর্থ সংকটের কারণে এসব যন্ত্রপাতি ব্যবহার ও মেরামত করা যাচ্ছে না। পাশাপাশি হাসপাতালের পুরাতন ও নতুন দুটি অ্যাম্বুলেন্সও নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। পুরাতনটির ইঞ্জিনে সমস্যা রয়েছে, আর নতুনটির টায়ার সমস্যা রয়েছে। বিআরটিএ রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত জটিলতার কারণে এগুলো মেরামত করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে রোগীরা অ্যাম্বুলেন্স সেবা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন।

এছাড়া হাসপাতালটিতে কেন্দ্রীয় স্টোর না থাকায় বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম আলাদা আলাদা স্থানে রাখায় অনেক কিছুই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসা কৈমারী ইউনিয়নের গাবরোল হাজীপাড়া গ্রামের গোলাম আজম, বালাপাড়া গ্রামের শহিদ, ডাউয়াবাড়ী নেকবক্ত গ্রামের আজিজুল ইসলাম ও মহসেনা খাতুনসহ আরও অনেকেই জানান, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা না থাকায় তারা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

খুটামারা ইউনিয়নের রোগী স্বপ্না রায় বলেন, “জ্বর ও পেট ব্যথা নিয়ে দুই দিন ধরে চিকিৎসা নিচ্ছি। গুরুতর রোগী এলে তাদের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে বাইরে গিয়ে বেশি টাকা খরচ করতে হচ্ছে।” এছাড়া দালালদের খপ্পরে পড়ে রোগীর স্বজনরা বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ছুটছেন।

হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মাহাদী হাসান জানান, মাত্র ৯ জন চিকিৎসক দিয়ে স্বাস্থ্যসেবা দিতে গিয়ে তারা হিমশিম খাচ্ছেন। পর্যাপ্ত চিকিৎসক না থাকায় রোগীরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। পর্যাপ্ত চিকিৎসক থাকলে সমস্যার অনেকটাই সমাধান সম্ভব হতো।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নন্দা সেন গুপ্তা বলেন, জনবল সংকট থাকা সত্ত্বেও হাসপাতালটিতে ২৪ ঘণ্টা স্বাস্থ্যসেবা চালু রয়েছে। সীমিত জনবল দিয়ে সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষার মেশিন নষ্ট থাকায় সেবা প্রদান ব্যাহত হচ্ছে, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

জেলা সিভিল সার্জন বলেন, জেলা সদরসহ সকল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শূন্য পদে জনবল নিয়োগের জন্য চাহিদা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। আশা করা যায়, দ্রুত এসব সমস্যার সমাধান হবে। অনিয়মের বিষয়ে কোনো তথ্য থাকলে তদন্তসাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এইচএস/আরএন
আরো দেখুন

Published by the Editor on behalf of the Observer Ltd. from Globe Printers, 24/A, New Eskaton Road, Ramna, Dhaka.
E-mail: district@dailyobserverbd.com, news@dailyobserverbd.com, advertisement@dailyobserverbd.com, For Online Edition: mailobserverbd@gmail.com
🔝