কারামুক্তি পেয়েছেন অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আবুল বারকাত। গত বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) তিনি রাজধানীর কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে বেরিয়ে আসেন।
রোববার সকালে এ তথ্য জানান কারা অধিদফতরের এআইজি (মিডিয়া) জান্নাত উল ফরহাদ। তিনি বলেন, আদালতের আদেশের কপি কারাগারে পৌঁছানোর পর আবুল বারাকাতকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
এর আগে গত ১৬ জুন গণভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর নীলক্ষেত এলাকায় ব্যবসায়ী আব্দুল ওয়াদুদ হত্যা মামলায় শুনানি শেষে তার জামিন মঞ্জুরের আদেশ দেন ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমানের আদালত।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী প্রসিকিউটর মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন জামিন মঞ্জুরের তথ্য জানান।
তার দুই দিন আগে ১৪ জুন ব্যবসায়ী আব্দুল ওয়াদুদ হত্যা মামলায় অধ্যাপক আবুল বারকাতকে আনুষ্ঠানিক ভাবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। সে দিন তার আইনজীবী জামিন চেয়ে আবেদন করলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়ে পরের দিন ১৫ জুন শুনানির দিন ধার্য করেন। সে দিন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীনের আদালতে জামিন আবেদন করা হলে তা নামঞ্জুর হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় পর দিন ১৬ জুন দুপুরে আবারও জামিন চেয়ে আবেদন করা হলে আদালত ৫ হাজার টাকা বন্ডে পুলিশ রিপোর্ট (তদন্ত প্রতিবেদন) দাখিল করা পর্যন্ত আবুল বারকাতের জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন।
আদালতে আবুল বারকাতের পক্ষে জামিন শুনানি করেন অ্যাডভোকেট শাহীনুর ইসলাম। শুনানিতে তিনি বলেন, 'কী কারণে তাকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হলো, ঘটনার সঙ্গে তার কী সম্পৃক্ততা রয়েছে তা আমাদের জানা নেই। তিনি অসুস্থ ও বয়স্ক মানুষ। অসুস্থতা ও বয়স বিবেচনায় তার জামিন প্রার্থনা করছি। আর তিনি যে ব্যক্তি, তাতে তার এই ঘটনার সঙ্গে কোনও সম্পর্ক থাকার বা কোনোভাবে জড়িত থাকার কথা নয়। তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগও নেই।'
অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামছুদ্দোহা সুমন এই জামিন আবেদনের বিরোধিতা করেন।
গত বছরের ১০ জুলাই রাতে ধানমন্ডির ৩ নম্বর সড়কের বাসা থেকে অধ্যাপক আবুল বারকাতকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। জালিয়াতির মাধ্যমে জনতা ব্যাংক থেকে অ্যাননটেক্স গ্রুপের নামে ২৯৭ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে আত্মসাতের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একটি মামলায় পর দিন তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল।
গত ০৭ জুন আপিল বিভাগ থেকে দুদকের ওই মামলায় নিজের পাসপোর্ট আদালতে জমা দেওয়ার শর্তে জামিন পান আবুল বারকাত। দুদকের মামলায় জামিন পেলেও কারাগার থেকে মুক্তি পাননি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এই অধ্যাপক। কারণ ওই দিনই জুলাই আন্দোলনের সময়কার ব্যবসায়ী আব্দুল ওয়াদুদ হত্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করে ডিবি পুলিশ। আজ এই মামলাটিতেও জামিন মেলায় তার মুক্তিতে আর কোনও বাধা রইলো না।
নথি ও মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বিকেলে নীলক্ষেত এলাকায় কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে গুলিতে নিহত হন ব্যবসায়ী আব্দুল ওয়াদুদ। এই ঘটনায় তার শ্যালক আব্দুর রব বাদি হয়ে নিউ মার্কেট থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটিতে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ওবায়দুল কাদেরসহ ১৩০ জনকে আসামি করা হয়েছিল।
Published by the Editor on behalf of the Observer Ltd. from Globe Printers, 24/A, New Eskaton Road, Ramna, Dhaka. E-mail: district@dailyobserverbd.com, news@dailyobserverbd.com, advertisement@dailyobserverbd.com, For Online Edition: mailobserverbd@gmail.com