পাকিস্তানের অভ্যন্তরে বিমান হামলা চালানোর দাবি করেছে আফগানিস্তান। দেশটির দাবি, হামলায় সশস্ত্র গোষ্ঠী ও গোয়েন্দা তৎপরতার সঙ্গে জড়িত কয়েকটি স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। শুক্রবার (১৯ জুন) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
আফগানিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতে এ হামলা চালানো হয়। তাদের দাবি, পাকিস্তানের বেলুচিস্তান ও খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের কয়েকটি স্থাপনায় এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। দুই প্রদেশই আফগানিস্তানের সীমান্তবর্তী এলাকা।
মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এসব স্থাপনা আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে হামলার পরিকল্পনা ও কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছিল। দেশটির পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য যেকোনো হুমকি মোকাবিলায় সর্বোচ্চ সক্ষমতা প্রয়োগ করা হবে।
তবে পাকিস্তানের তথ্য মন্ত্রণালয় আফগানিস্তানের এই হামলার দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে বলে জানিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স।
২০২১ সালে তালেবান ক্ষমতায় ফেরার পর থেকেই পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সম্পর্কের অবনতি হয়েছে। ইসলামাবাদের অভিযোগ, আফগানিস্তানভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) পাকিস্তানের ভূখণ্ডে হামলার জন্য আশ্রয় ও সহায়তা পাচ্ছে। তবে কাবুল বরাবরই এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে এবং বিষয়টিকে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করেছে।
গত কয়েক মাসে সীমান্ত এলাকায় দুই দেশের মধ্যে একাধিকবার সংঘর্ষ হয়েছে। এতে উভয় পক্ষের শতাধিক মানুষের প্রাণহানি হয়েছে। গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে পাকিস্তানের বিমান হামলার পর আফগানিস্তান পাল্টা হামলা চালালে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়।
এরপর মার্চ মাসে দুই পক্ষের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি হলেও পরস্পরের বিরুদ্ধে তা লঙ্ঘনের অভিযোগ অব্যাহত রয়েছে। চীনের মধ্যস্থতায় উত্তেজনা কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত কোনো স্থায়ী সমাধানে পৌঁছানো যায়নি।
জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসে সীমান্ত সংঘর্ষে অন্তত ৩৭২ জন আফগানি নিহত এবং আরও ৩৯৭ জন আহত হয়েছেন।
আফগানিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার ওপর যেকোনো ধরনের হুমকি কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে।
সূত্র: আল জাজিরা