📍 ঢাকা 📅 শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ৫ আষাঢ় ১৪৩৩
শিরোনাম:
সারাদেশ
পাইকগাছায় অসহনীয় লোডশেডিং: অতিষ্ঠ জনজীবন
✎ অবজারভার সংবাদদাতা
⏲ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ৫:২৮ পিএম আপডেট: ১৮.০৬.২০২৬ ৫:৩৯ পিএম  (ভিজিটর : )
প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

খুলনার পাইকগাছায় তীব্র তাপদাহের মধ্যে চরম আকার ধারণ করেছে বিদ্যুৎ বিভ্রাট। দিন-রাত মিলিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা চলা এই অসহনীয় লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে সাধারণ মানুষের জীবন। একদিকে তীব্র গরম, অন্যদিকে বিদ্যুতের এই লুকোচুরি—সব মিলিয়ে এলাকাবাসীর ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেছে। ক্ষুব্ধ নাগরিকেরা এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করছেন।

একজন ফেসবুক ব্যবহারকারী লিখেছেন, “পাইকগাছা পল্লী বিদ্যুতের কর্মকর্তারা কি সাধারণ মানুষের ধৈর্যের পরীক্ষা নিচ্ছেন?”

২৪ ঘণ্টায় বিদ্যুৎ থাকে মাত্র কয়েক ঘণ্টা

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দিন কিংবা রাত—কোনো নিয়ম ছাড়াই যখন-তখন বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি সময় বিদ্যুৎহীন থাকছে এলাকা। বিশেষ করে রাতে দফায় দফায় লোডশেডিংয়ের কারণে সাধারণ মানুষ ঘুমাতে পারছেন না।

এর ফলে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন শিক্ষার্থীরা। লোডশেডিংয়ের কারণে রাতে মোমবাতি বা চার্জার লাইট জ্বালিয়ে পড়াশোনা করতে হচ্ছে তাদের।

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও মামুনুর কম্পিউটারের স্বত্বাধিকারী শেখ মামুনুর রশিদ বলেন, “বিদ্যুৎ না থাকায় ফ্রিজে রাখা কাঁচামাল ও মাছ-মাংস নষ্ট হচ্ছে। ব্যাহত হচ্ছে ব্যবসা-বাণিজ্য।”

অপরদিকে তীব্র গরমে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগী এবং শিশুরা চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছে।

বিদ্যুৎ বিভাগের এমন উদাসীনতায় ক্ষুব্ধ পাইকগাছাবাসী ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদের ঝড় তুলেছেন।

একজন ক্ষুব্ধ নাগরিক লিখেছেন, “২৪ ঘণ্টার মধ্যে যদি ১৫ ঘণ্টাই বিদ্যুৎ না থাকে, তাহলে এটাকে লোডশেডিং বলে না; একে বলে ‘লোডশেডিংয়ের মাঝে মাঝে বিদ্যুৎ দেওয়া’। আমরা কি আদিম যুগে ফিরে যাচ্ছি?”

অনেকেই বলছেন, বিল দেওয়ার সময় একদিন দেরি হলে জরিমানা নেওয়া হয়; কিন্তু ঠিকমতো বিদ্যুৎ না দিলে তার জরিমানা কে দেবে? এই তীব্র গরমে রাতে ঘুমাতে না পেরে শিশুরা অসুস্থ হয়ে পড়ছে। বিদ্যুৎ অফিসের কর্মকর্তাদের শীতাতপনিয়ন্ত্রিত কক্ষে বসে সাধারণ মানুষের কষ্ট বোঝার কথা নয়।

অনেকেই আবার বিদ্যুৎ অফিসের কর্মকর্তাদের দায়িত্বজ্ঞানহীনতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং দ্রুত এই সমস্যার সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।

এই বিষয়ে স্থানীয় বিদ্যুৎ বিভাগের (পল্লী বিদ্যুৎ) পাইকগাছা জোনাল অফিসের ডিজিএম অঞ্জন সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “জাতীয় গ্রিডে চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ সরবরাহ কম এবং কারিগরি ত্রুটির কারণেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে।”

তবে কবে নাগাদ এই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো আশ্বাস দিতে পারেননি তিনি।

পাইকগাছাবাসীর দাবি, অবিলম্বে এই কৃত্রিম বা অন্যায্য লোডশেডিং বন্ধ করে এলাকায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা হোক, যাতে সাধারণ মানুষ এই চরম দুর্ভোগ থেকে রেহাই পায়।

এএস/আরএন
আরো দেখুন

Published by the Editor on behalf of the Observer Ltd. from Globe Printers, 24/A, New Eskaton Road, Ramna, Dhaka.
E-mail: district@dailyobserverbd.com, news@dailyobserverbd.com, advertisement@dailyobserverbd.com, For Online Edition: mailobserverbd@gmail.com
🔝