📍 ঢাকা 📅 বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ৩ আষাঢ় ১৪৩৩
শিরোনাম:
সারাদেশ
রৌমারী সীমান্তের শূন্যরেখায় ৯৬ ঘণ্টা ধরে ৯ জনের মানবেতর জীবন
✎ অবজারভার সংবাদদাতা
⏲ প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ১০:০৭ পিএম  (ভিজিটর : )

কুড়িগ্রামের রৌমারী সীমান্তে মানবিক সংকট যেন আরও গভীর হচ্ছে। বিএসএফের পুশইনের চেষ্টার শিকার হয়ে ৬ মাস বয়সী এক শিশুসহ ৯ জন টানা প্রায় ৯৬ ঘণ্টা ধরে আন্তর্জাতিক সীমান্তের শূন্যরেখায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

তীব্র রোদ, খোলা আকাশ আর অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটছে তাদের। মাথার ওপর সামান্য একটি প্লাস্টিকই এখন তাদের একমাত্র আশ্রয়। শিশুটির সঙ্গে রয়েছে আরও একটি ছোট শিশু। সীমান্তের ১০৬০ নম্বর পিলারের কাছে নির্জন স্থানে আটকে থাকা এসব মানুষের জন্য নেই পর্যাপ্ত খাবার, বিশুদ্ধ পানি কিংবা স্যানিটেশনের কোনো ব্যবস্থা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি নিষ্পাপ শিশুসহ নারী ও শিশুদের এমন অবস্থায় আটকে রাখা মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল। শিশুদের দুর্ভোগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সীমান্তবাসী ও গণমাধ্যমকর্মীরা।

জানা গেছে, গত রোববার গয়টাপাড়া ও ভন্দুরচর সীমান্ত দিয়ে কয়েকজনকে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করে বিএসএফ। বিজিবি বাধা দিলে তারা শূন্যরেখা-সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান নেয়। ঘটনার পর অনুষ্ঠিত পতাকা বৈঠকেও কোনো সমাধান হয়নি।

গয়টাপাড়া সীমান্তে পুশইনের শিকার ছয়জনের মধ্যে রয়েছেন দুই শিশু, একজন নারী ও দুই পুরুষ।

পুশইনের শিকার সুমি আক্তার বলেন, “গত তিন দিন ধরে আমরা এই গরমের মধ্যে এখানে আছি। কোলে ৬ মাস বয়সী একটি শিশু এবং সঙ্গে ৪ বছরের আরেকটি শিশু রয়েছে। খাবার নেই, পানি নেই, মাথার ওপর ছাদ নেই। বাচ্চারা কান্নাকাটি করছে, কিছুই খেতে দিতে পারছি না। অনেকে বিস্কুট ও রুটি দিচ্ছেন, সেগুলো দিয়েই ক্ষুধা মেটানোর চেষ্টা করছি।”

সুমি আক্তার আরও জানান, ২৭ দিন আগে সিলেট দিয়ে বাবা-মাসহ কাজের সন্ধানে অবৈধভাবে ভারতে যান। পরে ভারতীয় পুলিশ তাদের আটক করে বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করে। তিনি বলেন, “এখন আমাদের কেউ নিচ্ছে না।”

সুমির স্বামী বেলাল বলেন, “ছোট ছোট সন্তান নিয়ে খুব দুর্ভোগে আছি। পানি নেই, টয়লেট নেই। স্ত্রী-সন্তান নিয়ে খুব কষ্টে আছি। দিনের বেলা প্রচণ্ড গরমে দুই শিশুই অসুস্থ হয়ে পড়েছে। জীবনে অনেক বড় ভুল করেছি। বেঁচে থাকলে আর কখনো এ কাজ করব না। আমাদের বাঁচান।”

গয়টাপাড়া সীমান্ত দিয়ে পুশইনের শিকার ব্যক্তিরা দাবি করেন, তারা বাংলাদেশের ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার বিরুনিয়া ইউনিয়নের কংশেরকুল গ্রামের বাসিন্দা।

এদিকে রোববার (১৪ জুন) সকালে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে কোম্পানি পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিএসএফ পুশইনের ঘটনাটি অস্বীকার করায় বৈঠকটি কোনো সমাধান ছাড়াই শেষ হয়। বিজিবি অবৈধ পুশইন বন্ধ করে শূন্যরেখায় অবস্থানরত ৯ জনকে ফিরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ জানালেও তিন দিন পেরিয়ে গেলেও বিএসএফ তাদের ফিরিয়ে নেয়নি।

গয়টাপাড়ার বাসিন্দা ছক্কু মিয়া বলেন, “তিন দিন হয়ে গেল, দুই দেশের কোনো সরকারই তাদের দায়িত্ব নিচ্ছে না। তারা চরম ঝুঁকির মধ্যে দিনরাত কাটাচ্ছেন। বিষয়টি নিয়ে সীমান্ত পর্যায়ে আলোচনা করে অসহায় দুই শিশুর কথা বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত সমাধান হওয়া প্রয়োজন।”

রৌমারী উপজেলার শৌলমারী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সোনা মিয়া জানান, “কোলের শিশুসহ লোকগুলো খোলা আকাশের নিচে খুব কষ্টে দিন-রাত পার করছেন। গরমে ঘেমে শিশুরা কান্নাকাটি করছে। ঠিকমতো খাবার নেই, পানি নেই, টয়লেটের ব্যবস্থা নেই। অন্ধকার রাতে সাপ-বিচ্ছুর ভয়, মশার কামড়ে তাদের অবস্থা নাজুক হয়ে পড়েছে। বিএসএফও তাদের ফিরিয়ে নিচ্ছে না। দ্রুত সমাধান না হলে শিশুদের জন্য বড় ধরনের বিপদের আশঙ্কা রয়েছে।”

জামালপুর ৩৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসানুর রহমান বলেন, “ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে। দ্রুত সমাধানের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।”

পিএম/আরএন
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
আরো দেখুন

Published by the Editor on behalf of the Observer Ltd. from Globe Printers, 24/A, New Eskaton Road, Ramna, Dhaka.
E-mail: district@dailyobserverbd.com, news@dailyobserverbd.com, advertisement@dailyobserverbd.com, For Online Edition: mailobserverbd@gmail.com
🔝