📍 ঢাকা 📅 বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ৩ আষাঢ় ১৪৩৩
শিরোনাম:
সারাদেশ
গৃহকর্মীকে গরম কড়াই দিয়ে ছ্যাঁকা-মারধরের অভিযোগ পুলিশ দম্পতির বিরুদ্ধে
✎ অবজারভার প্রতিনিধি
⏲ প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ৮:০১ পিএম আপডেট: ১৭.০৬.২০২৬ ৮:০২ পিএম  (ভিজিটর : )

খুলনার সোনাডাঙ্গায় গৃহপরিচারিকাকে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে এক পুলিশ দম্পতির বিরুদ্ধে। বুধবার দুপুরে নগরের সোনাডাঙ্গা আবাসিক এলাকার সোলার পার্কের পাশে একটি ভাড়া বাসায় তাকে গরম কড়াই দিয়ে ছ্যাঁকা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এর আগে তাকে কান ধরে ওঠবস করানো ও মারধর করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ওই গৃহপরিচারিকাকে উদ্ধার করে সোনাডাঙ্গা থানার ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে নিয়ে যায়। ঘটনাটি জানাজানি হলে সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।

নির্যাতিত গৃহপরিচারিকার নাম মিলন (১৮)। আর অভিযুক্ত দম্পতি হলেন সোনাডাঙ্গা থানার এএসআই সঞ্জয় মিত্র ও তার স্ত্রী এএসআই পপি মিত্র। তারা দুজনই সোনাডাঙ্গা মডেল থানায় কর্মরত।

এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নির্যাতনের শিকার গৃহপরিচারিকার প্রকৃত নাম মিলন। তিনি নরসিংদীর বাসিন্দা। বাবা-মা মারা যাওয়ার পর দীর্ঘদিন ধরে তিনি সোনাডাঙ্গা থানার এএসআই পপি মিত্রের বাবার বাড়িতে থাকতেন। গত পাঁচ বছর ধরে তিনি পপি মিত্র ও তার স্বামীর সঙ্গে থাকছেন। অভিযোগ রয়েছে, সামান্য ভুলত্রুটি হলেই তার ওপর নির্যাতন চালাতেন ওই দম্পতি।

বুধবার দুপুরেও এর ব্যতিক্রম ঘটেনি। তরকারি পুড়ে যাওয়াকে কেন্দ্র করে মিলনের ওপর নির্মম নির্যাতন চালানো হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এর আগে তাকে কান ধরে ওঠবস করানো হয়।

বুধবার সোনাডাঙ্গার দ্বিতীয় আবাসিক এলাকার সোলার পার্কে একটি অনুষ্ঠান চলছিল। সেখানে ভিডিও ধারণ করছিলেন কয়েকজন সাংবাদিক। বাইরের দৃশ্য ধারণ করতে গিয়ে গৃহপরিচারিকা মিলনের ওপর নির্যাতনের চিত্র ফটো সাংবাদিক আরজি উজ্জলের ক্যামেরায় ধরা পড়ে।

পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন দিয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ ডেকে নেন উপস্থিত সাংবাদিকরা। বিষয়টি জানাজানি হলে সেখানে সাংবাদিক ও বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ভিড় করেন। পরে গৃহপরিচারিকাকে উদ্ধার করে সোনাডাঙ্গা থানার ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে নেওয়া হয়।

এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মিলনের শরীরের বিভিন্ন স্থানে একাধিক ছ্যাঁকার চিহ্ন দেখা গেছে। তার মুখমণ্ডলেও নির্যাতনের চিহ্ন রয়েছে।

এ বিষয়ে সোনাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, জাতীয় জরুরি সেবার মাধ্যমে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। গৃহকর্মীকে উদ্ধার করে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে রাখা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সংবাদ পেয়ে কেএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে এসেছেন। দুই এএসআইয়ের বিরুদ্ধে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। তাদের দুজনকে থানায় আনা হয়েছে। তবে গরম কড়াই দিয়ে ছ্যাঁকা দেওয়ার বিষয়টি গৃহকর্মী মিলন পুলিশের কাছে নিশ্চিত করেননি।


এসএস/আরএন
আরো দেখুন

Published by the Editor on behalf of the Observer Ltd. from Globe Printers, 24/A, New Eskaton Road, Ramna, Dhaka.
E-mail: district@dailyobserverbd.com, news@dailyobserverbd.com, advertisement@dailyobserverbd.com, For Online Edition: mailobserverbd@gmail.com
🔝