নোয়াখালীকে একটি নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও অপরাধমুক্ত জেলা হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে স্থানীয় প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন নবাগত পুলিশ সুপার এন এম নাসিরুদ্দিন। মঙ্গলবার এক ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে জেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে তিনি তাঁর কর্মপরিকল্পনা ও রূপরেখা তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পুলিশ সুপার মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী বীর শহীদদের এবং বাংলাদেশ পুলিশের মুক্তিযুদ্ধে শহীদ বীর সদস্যদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। পুলিশ সুপার তাঁর বক্তব্যে বলেন, “আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি— ‘পুলিশই জনতা, জনতাই পুলিশ’। জনগণের অংশগ্রহণ ছাড়া টেকসই আইন-শৃঙ্খলা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। নোয়াখালী জেলা পুলিশকে আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিতামূলক, জনবান্ধব এবং সেবামুখী বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলাই আমার প্রধান লক্ষ্য।”
তিনি পুলিশকে ভীতি বা আতঙ্কের নাম নয়; বরং সাধারণ মানুষের আস্থার প্রতীক, বিপদের সময় নির্ভরতার প্রথম আশ্রয়স্থল এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার অন্যতম সহায়ক শক্তি হিসেবে গড়ে তোলার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। নোয়াখালী জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও উন্নত করতে তিনি পাঁচটি বিষয়কে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন:
মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স: যুবসমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে মাদক ব্যবসায়ী, কারবারি ও তাদের পৃষ্ঠপোষকদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
কিশোর গ্যাং ও ইভটিজিং নির্মূল এবং নারী-শিশুর নিরাপত্তা: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও জনসমাগমস্থলে নজরদারি বৃদ্ধি করা হবে এবং নারী ও শিশুদের নিরাপত্তার বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
থানাকে আস্থার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করা: দালালচক্র বা অযাচিত প্রভাব ছাড়াই থানায় এসে সাধারণ মানুষ যেন আইনি সহায়তা পান, তা নিশ্চিত করা হবে। থানাকে প্রকৃত সেবার স্থান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে জেলা পুলিশ বদ্ধপরিকর।
সাইবার অপরাধ প্রতিরোধ: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব, প্রতারণা, সাইবার বুলিং ও ব্ল্যাকমেইলিংয়ের মতো অপরাধ মোকাবিলায় জেলা পুলিশের সংশ্লিষ্ট ইউনিটকে আরও কার্যকর করা হবে।
প্রবাসীবান্ধব পুলিশি সেবা: নোয়াখালী একটি প্রবাসীবহুল জেলা। প্রবাসীদের সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধ এবং তাদের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করবে।
সাংবাদিকদের সমাজের দর্পণ ও রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে উল্লেখ করে পুলিশ সুপার বলেন, একটি গণতান্ত্রিক, জবাবদিহিতামূলক ও সুশাসনভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা অনস্বীকার্য। বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন যেমন জনগণকে সচেতন করে, তেমনি পুলিশের কাজের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই সাংবাদিকদের সঙ্গে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহযোগিতা ও আস্থার সম্পর্ক বজায় রাখতে জেলা পুলিশ সর্বদা আগ্রহী।
তিনি যেকোনো সংবাদ প্রকাশের আগে তথ্যের সত্যতা যাচাই করার এবং প্রয়োজনে জেলা পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগের বিনীত অনুরোধ জানান। পুলিশ সুপার স্পষ্ট করে বলেন, “অপরাধীদের কোনো রাজনৈতিক, সামাজিক বা ব্যক্তিগত পরিচয় নেই; অপরাধী শুধু অপরাধী। পেশাদারিত্ব, সততা ও জবাবদিহিতার প্রশ্নে আমরা কোনো আপস করব না।”