চট্টগ্রামে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ব্যাট করতে নেমে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়েছে স্বাগতিক বাংলাদেশ। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে ১৯ ওভারে ১৩১ রানেই অলআউট হয়েছে টাইগাররা।
ইনিংসের শুরুটা অবশ্য মন্দ ছিল না। দুই ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম ও সাইফ হাসান সতর্কভাবে দলকে এগিয়ে নিচ্ছিলেন। তবে ২৬ রানের মাথায় তামিমের বিদায়ে ভাঙে উদ্বোধনী জুটি। ৯ বলে ১০ রান করে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন এই ওপেনার।
এর দুই ওভার পর সাজঘরের পথ ধরেন সাইফও। ওয়ানডে সিরিজের পর টি-টোয়েন্টিতেও ব্যাট হাতে হতাশ করেন তিনি। ম্যাথিউ রেনশোর বলে মিড-অফে সহজ ক্যাচ দেওয়ার আগে ১৪ বলে ২০ রান করেন ডানহাতি এই ব্যাটার।
দুই ওপেনারের বিদায়ের পর ক্রিজে আসেন অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয়। ছক্কা হাঁকিয়ে ইনিংস শুরু করলেও সেটিকে বড় করতে পারেননি। অ্যাডাম জাম্পার গুগলিতে বোল্ড হওয়ার আগে করেন ৮ রান। একই বোলারের শিকার হন সৌম্য সরকারও। চট্টগ্রামে প্রথমবার টি-টোয়েন্টি খেলতে নেমে ১৮ বলে ১৭ রান করেন তিনি।
মিডল অর্ডারের ব্যাটাররাও ছিলেন পুরোপুরি ব্যর্থ। পাঁচ নম্বরে নামা ইমন উচ্চাভিলাষী শট খেলতে গিয়ে ডিপ মিডউইকেটে ক্যাচ দেন। তাতে ৭৫ রানেই ৫ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। সেই চাপ আরও বাড়ান শামীম পাটোয়ারী। দায়িত্বহীন শট খেলে আউট হয়ে দলকে ফেলেন আরও বিপদে। ৭৮ রানেই হারায় ষষ্ঠ উইকেট।
ধসের মাঝেও কিছুটা আশা জাগিয়েছিলেন অভিষিক্ত সাকলাইন। দৃষ্টিনন্দন এক ছক্কা হাঁকিয়ে আত্মবিশ্বাসের আভাস দিলেও ইনিংস বড় করতে পারেননি। ১০ বলে ১০ রান করে ফেরেন তিনি। এরপর রিশাদ হোসেনও ৩ রান করে বিদায় নিলে ১০০ রানের আগেই ৮ উইকেট হারিয়ে বসে বাংলাদেশ।
১৩ ওভারের মাথায় ৮ উইকেট হারানোর পর পুরো ২০ ওভার খেলে যাওয়া তখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। শেষদিকে শেখ মেহেদীর লড়াকু ব্যাটিং কিছুটা সম্মানজনক সংগ্রহ এনে দেয় দলকে। ২২ বলে অপরাজিত ২৯ রান করেন তিনি। এছাড়া মোস্তাফিজুর রহমান ও শরিফুল ইসলামের ছোট ছোট অবদানে ১৯ ওভারে ১৩১ রান পর্যন্ত পৌঁছায় বাংলাদেশ।
অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল ছিলেন অ্যাডাম জাম্পা। ৩ উইকেট শিকারের পাশাপাশি টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে ১৫০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেন এই লেগ স্পিনার। জুয়েল ডেভিস নেন ৩ উইকেট, ম্যাথিউ রেনশোর শিকার ২টি। আর নিখিল ও জনসন নেন একটি করে উইকেট।