📍 ঢাকা 📅 শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ৫ আষাঢ় ১৪৩৩
শিরোনাম:
সারাদেশ
মৃত্যুফাঁদে পরিণত হচ্ছে পাইকগাছা-কয়রা সড়ক, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে মানুষ
✎ অবজারভার সংবাদদাতা
⏲ প্রকাশিত: সোমবার, ১১ মে, ২০২৬, ৫:৪৭ পিএম  (ভিজিটর : )

খুলনার পাইকগাছা পৌর সদরের জিরো পয়েন্ট থেকে কয়রা সড়কের ব্যস্ততম অংশ এখন যেন এক ভয়াবহ মৃত্যুফাঁদ। সড়কের ওপর ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা পাথরের খোয়া, স্তূপ করে রাখা ইট-বালু এবং রাস্তার একাংশ দখল করে রাখা যানবাহনের কারণে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে হাজারো মানুষ। সামান্য অসাবধানতা, হঠাৎ ব্রেক কিংবা এক মুহূর্তের ভারসাম্য হারালেই ঘটে যেতে পারে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা। অথচ এমন বিপজ্জনক পরিস্থিতি দিনের পর দিন চললেও যেন দেখার কেউ নেই।

সরেজমিনে দেখা যায়, শিববাটি মৌজায় নির্মাণাধীন নতুন পৌর ভবনের পাশে পাইকগাছা-কয়রা প্রধান সড়কের ধারে সড়ক উন্নয়ন কাজের পাথর ফেলে রাখা হয়েছে। সেই পাথরের বড় একটি অংশ সড়কের ওপর ছড়িয়ে পড়ে রাস্তার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ দখল করে রেখেছে। ফলে যানবাহন চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে মোটরসাইকেল আরোহীরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন। পাথরের খোয়ার ওপর চাকা পিছলে যেকোনো সময় ঘটতে পারে ভয়াবহ দুর্ঘটনা।

শুধু তাই নয়, সড়কের বিভিন্ন স্থানে বাড়ি নির্মাণের জন্য ইট, বালু ও পাথর ফেলে রাখায় রাস্তা আরও সংকুচিত হয়ে পড়েছে। কোথাও কোথাও সড়কের ওপর বাস দাঁড় করিয়ে রাখার কারণে সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট ও বিশৃঙ্খলা। জিরো পয়েন্ট থেকে শিববাটি ব্রিজ পর্যন্ত পুরো এলাকায় যেন অব্যবস্থাপনার চিত্র ফুটে উঠেছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, “এটা এখন আর রাস্তা নেই, মানুষের জন্য মরণফাঁদ হয়ে গেছে। প্রতিদিন ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটছে। বড় দুর্ঘটনা ঘটলে তখন হয়তো সবাই নড়েচড়ে বসবে।”

কলেজ শিক্ষার্থী সুমাইয়া খাতুন বলেন, “প্রতিদিন কলেজে যেতে ভয় লাগে। মোটরসাইকেল বা ইজিবাইক সামান্য স্লিপ করলেই মানুষ পড়ে যাচ্ছে। রাতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে যায়।”

মোটরসাইকেল চালক রবিউল ইসলাম রনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “রাস্তার ওপর পাথর ছড়িয়ে আছে, আবার বাসও দাঁড়িয়ে থাকে। সামনে বড় গাড়ি এলে সাইড দিতে গিয়ে প্রাণ হাতে নিয়ে চলতে হয়। প্রশাসন কি বড় দুর্ঘটনার অপেক্ষা করছে?”

ইজিবাইক চালক শফিকুল গাজী বলেন, “রাস্তার জায়গা এত কমে গেছে যে দুটি গাড়ি ঠিকমতো পাশ কাটাতে পারে না। প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে গাড়ি চালাতে হয়। যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।”

স্থানীয় বাসিন্দা আবু বক্কার সিদ্দিকী বলেন, “এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন কয়রা অঞ্চলের শত শত তরমুজবাহী ট্রাক দেশের বিভিন্ন স্থানে যায়। সন্ধ্যার পর ভারী যানবাহনের চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। এমন ব্যস্ত সড়কে পাথর-বালু ফেলে রাখা চরম দায়িত্বহীনতা।”

স্থানীয়রা জানান, এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন শত শত মোটরসাইকেল, ভ্যান, ইজিবাইক, বাস, ট্রাক ও পণ্যবাহী যান চলাচল করে। বিশেষ করে কয়রা থেকে আসা তরমুজবাহী ট্রাক রাতভর এই সড়ক ব্যবহার করে দেশের বিভিন্ন জেলায় পণ্য পরিবহন করে। ফলে সন্ধ্যার পর সড়কটি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সড়কের ওপর নির্মাণসামগ্রী পড়ে থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। তাদের প্রশ্ন—প্রাণহানি ঘটার পরই কি কেবল প্রশাসনের টনক নড়বে?

সচেতন নাগরিকদের মতে, ব্যস্ততম এই সড়কে সামান্য অবহেলাও কেড়ে নিতে পারে বহু নিরীহ মানুষের প্রাণ। তাই দ্রুত সড়ক থেকে ইট, বালু ও পাথর অপসারণ, অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।

এএস/আরএন
আরো দেখুন

Published by the Editor on behalf of the Observer Ltd. from Globe Printers, 24/A, New Eskaton Road, Ramna, Dhaka.
E-mail: district@dailyobserverbd.com, news@dailyobserverbd.com, advertisement@dailyobserverbd.com, For Online Edition: mailobserverbd@gmail.com
🔝