কক্সবাজারের পেকুয়ায় নববধূ কাজল রেখার রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (২১ জুন) বিকেল ৪টার দিকে নবগঠিত পেকুয়া পৌরসভার সর্বস্তরের বাসিন্দাদের ব্যানারে উত্তর গোঁয়াখালীর চলত মার্কেটসংলগ্ন এলাকায় এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এতে বিপুলসংখ্যক নারী, পুরুষ ও শিশু অংশ নেন।
মানববন্ধন শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি চলত মার্কেট এলাকা থেকে শুরু হয়ে মামা-ভাগিনা দোকান মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। এ সময় অংশগ্রহণকারীরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার (২০ জুন) দুপুরে পেকুয়া সদর ইউনিয়নের মেহেরনামা মুরারপাড়া এলাকায় শ্বশুরবাড়ি থেকে কাজল রেখা (১৯) নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
নিহতের পরিবারের দাবি, কাজল রেখাকে হত্যা করে মরদেহ ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। তারা অভিযোগ করেন, ঘটনার পর স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা বাড়ি ছেড়ে চলে যান।
কাজল রেখা পেকুয়া পৌরসভার উত্তর গোঁয়াখালী এলাকার গ্রাম পুলিশ জসিম উদ্দিনের মেয়ে। চলতি বছরের ৩১ জানুয়ারি মুরারপাড়া এলাকার রাজু ইসলাম রানার সঙ্গে তার বিয়ে হয়।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, বিয়ের পর থেকে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ চলছিল। বিশেষ করে বিয়ের সময় দেওয়া স্বর্ণালংকার বিক্রিকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়। এর জেরে প্রায় ১৫ দিন আগে কাজল রেখা বাবার বাড়িতে চলে যান।
তারা জানান, শুক্রবার বিকেলে কাজল রেখা বাবার বাড়ি থেকে বিভিন্ন ফলমূল ও উপহারসামগ্রী নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে ফিরে যান। পরদিন তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
মানববন্ধনে নিহতের বাবা জসিম উদ্দিন বলেন, “আমার মেয়ের মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্ত চাই। যদি এটি হত্যাকাণ্ড হয়ে থাকে, তাহলে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।”
গ্রাম পুলিশ কল্যাণ সমিতি কক্সবাজার জেলা শাখার সভাপতি হেলাল উদ্দিন বলেন, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং দায়ীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন।
পেকুয়া সদর পশ্চিম জোন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মোনাফ বলেন, “ঘটনার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি।”
পরিবারের সদস্যরা আরও জানান, ঘটনার পর রাজু ইসলাম রানা ভিডিও কলে কাজল রেখার মৃত্যুর খবর পরিবারের সদস্যদের জানান। পরে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ দেখতে পান।
এদিকে, ময়নাতদন্ত শেষে রোববার বিকেলে কাজল রেখার মরদেহ বাড়িতে আনা হলে তাকে শেষবারের মতো দেখতে স্থানীয় মানুষের ভিড় জমে। পরে জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হয়।
ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
এনইউ/এসআর