📍 ঢাকা 📅 রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩
শিরোনাম:
সারাদেশ
ফুলবাড়ীতে বাড়ছে নদ-নদীর পানি, বন্যা শঙ্কায় তীরবর্তী হাজারো মানুষ
✎ অবজারভার সংবাদদাতা
⏲ প্রকাশিত: রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬, ৫:১৪ পিএম  (ভিজিটর : )

উজানের ঢল ও টানা বৃষ্টিপাতের প্রভাবে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার প্রধান নদী ধরলাসহ বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। যদিও এখনো সব নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে, তবুও নদীতীরবর্তী এলাকার হাজারো মানুষের মধ্যে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

রোববার (২১ জুন) দুপুর আড়াইটার দিকে উপজেলার শিমুলবাড়ী ইউনিয়নের চরসোনাইকাজী এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায়, ধরলা নদীর পানি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে, ধরলা নদীর তালুক শিমুলবাড়ী (ফুলবাড়ী ধরলা সেতু) পয়েন্টে পানির উচ্চতা সামান্য কমেছে।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নদ-নদী পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় এ এলাকায় ৩০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোববার সকাল ৬টায় তালুক শিমুলবাড়ী পয়েন্টে ধরলা নদীর পানির উচ্চতা ছিল ২৯ দশমিক ৭৮ মিটার। সকাল ৯টায় তা কমে ২৯ দশমিক ৭৫ মিটারে নেমে আসে। পরে বিকেল ৩টায় পানির উচ্চতা রেকর্ড করা হয় ২৯ দশমিক ৬৮ মিটার। এ পয়েন্টে বিপৎসীমা ৩০ দশমিক ৮৭ মিটার হওয়ায় নদীর পানি বিপৎসীমার ১১৯ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

স্থানীয়দের মতে, ধরলাসহ বিভিন্ন নদ-নদীর পানি কখনো বাড়ছে, আবার কখনো কমছে। তবে গতকালের তুলনায় বারোমাসিয়া নদীর পানি কমে যাওয়ায় তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের পানিবন্দি পাট ও ভুট্টাখেতের পানি নামতে শুরু করেছে।

ধরলা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে তীরবর্তী চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের মধ্যে সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়তে পারে।

চরসোনাইকাজী এলাকার বাসিন্দা জহুরুল হক ও ওবায়দুল হক জানান, গত চার দিন ধরে নদীর পানি ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এভাবে পানি বাড়তে থাকলে আমন ধানের বীজতলাসহ বিভিন্ন ফসল তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

একই এলাকার কৃষক জরিতুল্লা আলী বলেন, “ধরলার পানি বৃদ্ধির কারণে আমার আমনের বীজতলা ও পাটক্ষেত ইতোমধ্যে পানিতে ডুবে গেছে। বীজতলা নষ্ট হয়ে গেলে আমন চাষ করা কঠিন হয়ে পড়বে। এছাড়া পানি আরও বাড়লে বসতবাড়িতেও পানি ঢুকে পড়ার শঙ্কা রয়েছে।”

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল ইসলাম বলেন, “উজানের ঢল ও বৃষ্টিপাতের কারণে জেলার কয়েকটি নদীর পানি ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে বর্তমানে সব নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার নিচে রয়েছে। তাই তাৎক্ষণিক বন্যার কোনো আশঙ্কা নেই। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।”

তবে উজানের ঢল ও বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে নদ-নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বিরাজ করছে।

এসিআর/এসআর
আরো দেখুন

Published by the Editor on behalf of the Observer Ltd. from Globe Printers, 24/A, New Eskaton Road, Ramna, Dhaka.
E-mail: district@dailyobserverbd.com, news@dailyobserverbd.com, advertisement@dailyobserverbd.com, For Online Edition: mailobserverbd@gmail.com
🔝