📍 ঢাকা 📅 শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ৫ আষাঢ় ১৪৩৩
শিরোনাম:
সারাদেশ
ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত ভাড়া, মহাসড়কে যানবাহন ও যাত্রীচাপ বৃদ্ধিতে ধীরগতি
✎ অবজারভার সংবাদদাতা
⏲ প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ৬:২৩ পিএম  (ভিজিটর : )

শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ায় নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়ক এবং সাভারে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে বেড়েছে ঘরমুখো মানুষের ভিড়। এসব যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছাতে গণপরিবহনের চাপও বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়াও দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল থেকে ঢাকা ও আশপাশের কোরবানির পশুর হাটে প্রবেশ করছে পশুবাহী ট্রাক। সব মিলিয়ে সড়কে দায়িত্বে থাকা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ব্যস্ততাও বৃদ্ধি পেয়েছে।

সোমবার সকালে নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কের বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ডে শিল্পাঞ্চলের যাত্রীদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। এছাড়া দুপুরের পর থেকে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক ও নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কে ঘরমুখো যাত্রীদের চাপ বাড়তে থাকে। এসব যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছে দিতে সড়কে যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। আর এ সুযোগে বাস কাউন্টারগুলো যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে বলে অভিযোগ করেছেন সাধারণ যাত্রীরা। অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে বাস কাউন্টারগুলোতে প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

এর আগে রোববার শিল্পাঞ্চল সাভার-আশুলিয়ার ১০ শতাংশ গার্মেন্টস কারখানায় ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। রোববার দুপুরে আরও ৮০ শতাংশ শিল্পকারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়। যে কারণে দুপুরের পর মহাসড়ক দুটিতে যানবাহন ও যাত্রীর চাপ অনেকটাই বৃদ্ধি পেয়েছে।

সরেজমিনে সাভার-আশুলিয়ার বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ড ঘুরে দেখা গেছে, লোকাল বাসগুলো দূরের গন্তব্যে যাওয়ার জন্য সড়কের পাশে সারিবদ্ধভাবে রাখা আছে। বিভিন্ন এলাকায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, লেগুনা এবং অনেকেই পরিবার-পরিজন নিয়ে পায়ে হেঁটে বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছাচ্ছেন। পরবর্তীতে তারা সড়কের পাশে থামিয়ে রাখা বাসগুলোর চালক ও কন্ডাক্টরের সঙ্গে ভাড়ার বিষয়ে দরকষাকষি করে গাড়িতে উঠছেন।

এ সময় অনেককেই ভাড়া বেশি হওয়ার কারণে গাড়িতে না উঠে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। এছাড়া দূরপাল্লার বাস কাউন্টারগুলোতে টিকিট কেটেও অনেক যাত্রীকে গাড়ির জন্য অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। তবে যেসব যাত্রী বাসভাড়া বেশি হওয়ার কারণে গন্তব্যে পৌঁছাতে হিমশিম খাচ্ছেন, তারা বিকল্প হিসেবে গরুবাহী খালি ট্রাক কিংবা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মালবাহী ট্রাকের ওপর উঠে গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন।

মাথায় বড় বস্তা, এক হাতে ব্যাগ আর অন্য হাতে ৪ বছরের মেয়েশিশুকে নিয়ে ফুটওভার ব্রিজ পার হচ্ছিলেন পোশাক শ্রমিক সুজন মিয়া। সিঁড়ি দিয়ে নামতে গিয়ে মেয়েকে ব্যাগসহ কোলে নিয়েই নামছিলেন, আর পেছনে আরেকটি বস্তা হাতে তার স্ত্রী হাঁটছিলেন। দীর্ঘক্ষণ দরকষাকষি করে ভাড়া ঠিক করে পরিবার নিয়ে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ছুটছেন তারা।

সুজন মিয়া জানান, “একশ টাকার ভাড়া তিনশ টাকা, দুই জনের টিকিটে চারশ টাকা নিচ্ছে। তারপরও সামনে সিট না পেয়ে পেছনেই উঠতে হচ্ছে। সামনে সিটের ভাড়া আরও বেশি।”

বাসের অপর যাত্রী আক্তার হোসেন বলেন, “সুযোগে বাসের লোকজন আমাদের পকেট কাটছে। না গিয়েও উপায় নেই। কিন্তু বাসের ভাড়া বাড়লেও আমাদের আয়-রোজগার বাড়েনি।” অতিরিক্ত ভাড়া আদায়কারীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

এদিকে শিল্পাঞ্চল সাভার-আশুলিয়ার লাখো শ্রমজীবী মানুষসহ নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা মানুষের নিরাপত্তা দিতে মহাসড়ক দুটিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে। যাত্রীদের জানমাল ও স্বস্তির ঈদযাত্রা নিশ্চিত করতে ঢাকা জেলা পুলিশের প্রায় ৩ হাজারের বেশি সদস্য যাত্রীদের নিরাপত্তা ও মহাসড়কের যানজট নিরসনে দিনরাত কাজ করছেন। রাজধানীর গাবতলীসহ বিভিন্ন স্থান থেকে যাত্রীবাহী পরিবহনগুলো সাভারের ওপর দিয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চলাচল করছে।

সড়কে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরা জানান, সোমবার দুপুরের পর থেকে সাভার-আশুলিয়ায় শিল্পাঞ্চলের অধিকাংশ কারখানায় ছুটি ঘোষণার পর ঘরমুখো মানুষের ঢল নামতে শুরু করেছে। অতিরিক্ত চাপ সামাল দিতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েনের পাশাপাশি বিজিবি সদস্যরাও টহল দিচ্ছেন। এছাড়া গত তিন দিন ধরে সাভার, আশুলিয়া ও ধামরাই এলাকার কারখানাগুলো পর্যায়ক্রমে ছুটি হচ্ছে। তাই মহাসড়কে চাপ বাড়লেও যানজটের কোনো আশঙ্কা নেই।

সাভার হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ শাজাহান বলেন, সাভার-আশুলিয়া ও ধামরাই এলাকার গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বিরামহীনভাবে কাজ করছেন। একইসঙ্গে ঢাকা জেলা উত্তর ট্রাফিক পুলিশ, ডিবি পুলিশসহ ভলান্টিয়াররা নিজ নিজ জায়গা থেকে দায়িত্ব পালন করছেন। এবার ঈদে অতি ঝুঁকিপূর্ণ স্থান হিসেবে বাইপাইল থেকে শ্রীপুর পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার সড়কে ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজ চলমান রয়েছে। এর ফলে খানাখন্দ ও নির্মাণসামগ্রী রাখার কারণে উত্তরবঙ্গগামী যাত্রা নিয়ে সংশয় থাকলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা যাতায়াত নির্বিঘ্ন রাখতে কাজ করছেন।

ঢাকা জেলার পুলিশের টিআই প্রশাসন (উত্তর) মোহাম্মদ রুহুল আমীন সোহেল জানান, দুপুরের পর থেকে সড়কে যানবাহনের চাপ বেড়েছে। তবে আমিনবাজার থেকে নবীনগর পর্যন্ত ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে যানবাহনের চাপ তুলনামূলক কম। তবে বাইপাইল থেকে চন্দ্রা পর্যন্ত সড়কে যানবাহন ধীরগতিতে চলছে। এছাড়া ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজের ধীরগতি ও অব্যবস্থাপনার কারণে আশুলিয়ার বাইপাইল এলাকায় সড়কে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। এ কারণে কিছুটা যানজটের সৃষ্টি হতে পারে। তবে যাত্রীভোগান্তি কমাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক রয়েছেন। পাশাপাশি কন্ট্রোল রুম থেকে সিসি ক্যামেরার মাধ্যমেও যানজট পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

ওএফ/আরএন
আরো দেখুন

Published by the Editor on behalf of the Observer Ltd. from Globe Printers, 24/A, New Eskaton Road, Ramna, Dhaka.
E-mail: district@dailyobserverbd.com, news@dailyobserverbd.com, advertisement@dailyobserverbd.com, For Online Edition: mailobserverbd@gmail.com
🔝