জামালপুরে পুলিশ কনস্টেবল (টিআরসি) নিয়োগ প্রক্রিয়ার প্রাথমিক ধাপ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। নবাগত পুলিশ সুপারের তত্ত্বাবধানে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার মধ্য দিয়ে মেধাতালিকায় ৪৩ জন প্রার্থীকে নির্বাচিত করা হয়েছে। সম্পূর্ণ তদবিরমুক্ত ও বিনা টাকায় গর্বিত পুলিশ সদস্য হওয়ার দ্বারপ্রান্তে রয়েছেন তারা। এছাড়া অপেক্ষমাণ তালিকায় রাখা হয়েছে আরও ৯ জনকে।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকালে উত্তীর্ণ ও অপেক্ষমাণ পরীক্ষার্থীদের জামালপুর পুলিশ লাইন্সে ভেরিফিকেশন ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার ফরম পূরণ কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়।
জেলা পুলিশের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ফেব্রুয়ারি মাসে ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) পদে দরখাস্ত আহ্বান করা হয়। জেলায় মোট ৩ হাজার ৮৭৩ জন প্রার্থী আবেদন করেন। সাতটি ধাপে ‘নকআউট সিস্টেম’ (একটি ইভেন্টে ব্যর্থ হলে পরবর্তী ধাপে অংশগ্রহণের সুযোগ ছিল না) অনুসরণ করে তিন দিনব্যাপী শারীরিক পরীক্ষা ও কাগজপত্র যাচাই করা হয়।
১৫ এপ্রিল প্রথম দিনে শারীরিক মাপ ও কাগজপত্র যাচাইয়ে ২ হাজার ৮৬৩ জন অংশগ্রহণ করেন। এর মধ্যে ১ হাজার ৭১৮ জন উত্তীর্ণ হন। ১৬ এপ্রিল দ্বিতীয় দিনে ২০০ মিটার দৌড়, পুশ-আপ, লং জাম্প ও হাই জাম্প পরীক্ষায় ১ হাজার ৬৬১ জন অংশ নিয়ে ৯৯৮ জন উত্তীর্ণ হন। ১৭ এপ্রিল তৃতীয় দিনে নারীদের জন্য ১ হাজার মিটার এবং পুরুষদের জন্য ১ হাজার ৬০০ মিটার দৌড়, ড্র্যাগিং ও রোপ ক্লাইম্বিং পরীক্ষায় ৯৮৯ জন অংশ নিয়ে ৪৯৫ জন কৃতকার্য হন। এ পর্যায়ে উত্তীর্ণদের ফেস ডিটেকশনের জন্য ছবি সংরক্ষণ করা হয়।
পরবর্তীতে লিখিত পরীক্ষার জন্য কৃতকার্যরা অনলাইনে মাত্র ৫৬ টাকা জমা দেন। ৪৯৫ জনের মধ্যে ৪৯০ জন প্রবেশপত্র সংগ্রহ করেন। ২৭ এপ্রিল জামালপুর আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজে দেড় ঘণ্টাব্যাপী ৪৫ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ৪৯০ জনের মধ্যে ৪৮৮ জন অংশগ্রহণ করেন। উত্তরপত্র কোডিং পদ্ধতিতে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স কর্তৃক মূল্যায়ন করা হয়।
৬ মে লিখিত পরীক্ষার ফলাফলে ৭৮ জন উত্তীর্ণ হন। এরপর তাদের মৌখিক ও মনস্তাত্ত্বিক পরীক্ষা নেওয়া হয়। সব ধাপ শেষে ৪৩ জনকে মেধাতালিকায় চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করা হয় এবং ৯ জনকে অপেক্ষমাণ তালিকায় রাখা হয়।
পরবর্তীতে নির্বাচিত ও অপেক্ষমাণ প্রার্থীদের স্ব স্ব থানার মাধ্যমে প্রাথমিক ডাক্তারি পরীক্ষার তারিখ জানানো হবে। এছাড়া রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতাল ও জামালপুর সদর হাসপাতালে চূড়ান্ত স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন করা হবে। সফল পুলিশ ভেরিফিকেশন ও ডাক্তারি পরীক্ষা শেষে নির্বাচিত প্রার্থীদের মৌলিক প্রশিক্ষণের জন্য পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারে পাঠানো হবে।
পুলিশ সুপার ফারহানা ইয়াসমিন বলেন, “সমগ্র নিয়োগ কার্যক্রম শতভাগ স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও জবাবদিহিমূলক পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। কোনো ধরনের তদবির, আর্থিক লেনদেন কিংবা অনিয়মের সুযোগ ছিল না। মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতেই প্রার্থীদের নির্বাচন করা হয়েছে।”
তিনি জামালপুর জেলা পুলিশ নিয়োগ কার্যক্রমে সহযোগিতার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান এবং নবনির্বাচিত পুলিশ সদস্যদের সফলতা কামনা করেন।
জেজে/আরএন