গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলায় একই পরিবারের পাঁচজনকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় গোপালগঞ্জের গ্রামের বাড়িতে শোকের মাতম চলছে।
শনিবার ভোরে কাপাসিয়ার রাউৎকোনা গ্রামে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার পাইককান্দি ইউনিয়নের পাইকান্দি উত্তর চরপাড়া গ্রামের শাহাদাত মোল্লার মেয়ে শারমিন আক্তার (৩০), তার ছেলে রসুল মোল্লা (১৮) এবং তিন মেয়ে মিম আক্তার (১৪), হাবিবা (১০) ও ফারিয়া (২)।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ২০ বছর আগে একই উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নের বাসাবাড়ি গ্রামের আতিয়ার মোল্লার ছেলে ফোরকান মোল্লার সঙ্গে সামাজিকভাবে শারমিন আক্তারের বিয়ে হয়। বিয়ের পর কয়েক বছর শ্বশুরবাড়িতে থাকার পর স্বামী-স্ত্রী ঢাকায় বসবাস শুরু করেন। প্রায় ছয় মাস আগে তারা গাজীপুরের কাপাসিয়ায় চলে যান। সেখানে ফোরকান মোল্লা প্রাইভেটকার চালিয়ে সংসার চালাতেন।
স্বজনরা জানান, পারিবারিক কলহের জেরে প্রায় এক বছর আগে শারমিন বাবার বাড়িতে চলে আসেন। পরে ফোরকান মোল্লা শ্বশুরবাড়ির লোকজনের মাধ্যমে তাকে আবার সংসারে ফিরিয়ে নেন।
নিহত শারমিন আক্তারের মা ফিরোজা বেগম (৬০) জানান, শুক্রবার ফোরকান মোল্লা চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে রসুল মোল্লাকে তার ভাড়া বাসায় ডেকে নেন। রসুল তার বড় বোন ফাতেমা বেগমের বাসায় থেকে গাজীপুরের একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন।
তিনি বলেন, শনিবার সকালে ফোরকানের ভাই জব্বার মোল্লা মুঠোফোনে কল করে জানান, ফোরকানের বাসায় সবাই মারা গেছে। পরে রসুলসহ অন্যদের মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। খবর পেয়ে স্বজনরা কাপাসিয়ায় গিয়ে বাসার ভেতরে পরিবারের সদস্যদের মরদেহ দেখতে পান।
এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। হত্যাকাণ্ডের কারণ উদঘাটনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে।
এমএইচএম/এসআর