📍 ঢাকা 📅 মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ২ আষাঢ় ১৪৩৩
শিরোনাম:
অনলাইন স্পেশাল
কাজে আসছে না ৩০ কোটি টাকার সেতু, বাঁশের সাঁকোয় পারাপার
✎ কাজী কামাল হোসেন
⏲ প্রকাশিত: শনিবার, ৪ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:৪৭ পিএম  (ভিজিটর : )

নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার শীবগঞ্জ-গোপিনাথপুর বাজার এলাকায় আত্রাই নদের ওপর প্রায় সাড় ৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি সেতু নির্মাণ করা হয়। কিন্তু সেতুটির কাজ শেষ হলেও সংযোগ সড়ক না থাকায় গত এক বছরেও চালু করা সম্ভব হয়নি সেটি। ফলে সেতুর কোনো সুফল পাচ্ছে না স্থানীয় বাসিন্দারা। বাধ্য হয়ে নদ পারাপারে  বাঁশের সাঁকো ব্যবহার করতে হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা যায়, উপজেলার আত্রাই নদের শীবগঞ্জগোপিনাথপুর বাজার এলাকায় ২৫৯ মিটার দৈর্ঘ্যের সেতুটির কাজ শুরু হয় ২০২১ সালে মার্চ মাসে। সেতুটি নির্মাণের ব্যয় ধরা হয় ৩০ কোটি ৫৯ লাখ ৫৮ হাজার টাকা। কাজ পায় ঢাকার দিলকুশার ম্যাক্স ইনফাট্রাকচার নামে একটি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৩ সালের আগস্টে। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় মেয়াদ বাড়িয়ে সময় বৃদ্ধি করা হলেও সেতুটির পূর্ব পাশে ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতায় সংযোগ সড়ক না হওয়ায় গত এক বছরেও চালু হয়নি।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, সেতুটির নির্মাণ এলাকার পূর্বপাশে উত্তরগ্রাম ইউনিয়ন ও পশ্চিম পাশে চান্দাশ ইউনিয়ন। উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৪ কিলোমিটার দক্ষিণে নদের পূর্ব পাশে শীবগঞ্জ বাজার এবং পশ্চিমপাশে গোপিনাথপুরে ছোট বাজারে একটি খেয়াঘাট রয়েছে। শুষ্ক মৌসুমে বাঁশের সাঁকো এবং বর্ষায় নৌকা দিয়ে পারাপার হতে হয় জেলার মান্দা, পত্নীতলা ও পোরশা উপজেলার বাসীন্দারা। প্রতিদিন এ খেয়াঘাট দিয়ে শিক্ষার্থীসহ অন্তত ৪ থেকে ৫ হাজার মানুষ পারাপার হয়। শুষ্ক মৌসুমে তেমন ঝুঁকি না থাকলেও বর্ষায় ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় পারাপার হতে হয়। এ কারণে এলাকাবাসীকে দুর্ভোগে পড়তে হতো। দুর্ভোগ কমাতে নদের ওপর সেতুটি নির্মাণ করা হয়। কিন্তু সংযোগ সড়ক না হওযায় গত এক বছর ধরে ব্রীজের দুই পাশে বেড়া দিয়ে মুখ বন্ধ রাখায় বাঁশের সাঁকো দিয়ে পার হতে হচ্ছে।

গোপিনাথপুর গ্রামের বাসিন্দা সালমান ফারসি বলেন, ‘বর্ষায় নদ পার হতে নৌকার জন্য ৩০ মিনিটের মতো অপেক্ষা করতে হয়। নদী পার হয়ে ওপারে ছেলে-মেয়েদের পড়াশুনাও কষ্টকর হয়ে পড়েছে। বর্ষার সময় নদে ভরপুর পানি থাকলে নৌকা পারাপারে আরো ভয়াবহ অবস্থা হয়। সেতুটি যদি তাড়াতাড়ি চালু হতো তাহলে সবার জন্যই সুবিধা হতো এবং আমাদের দীর্ঘদিনের দুঃখ-কষ্ট দূর হতো।’

কাঞ্চন গ্রামের সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘গত প্রায় ৫০ বছর থেকে এ খেয়াঘাট দিয়ে কখনো নৌকায় আবার কখনো বাঁশের সাঁকোতে পারাপার হতে হয়। একটি ব্রীজ নির্মাণ হয়েছে কিন্তু আমরা এখনো চলাচল করতে পারছি না। বাধ্য হয়ে বাঁশের সাঁকো পার হতে হচ্ছে। ব্রীজটি চালু হলে আমাদের যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও সহজ হবে।’

মান্দার সতিহাট গ্রামের আক্কাস আলী বলেন, ‘মেয়েকে বিয়ে দেওয়ার সুবাদে এ খেয়াঘাট দিয়ে গত প্রায় ২০ বছর থেকে চলাচল করতে হচ্ছে। জনসাধারণের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে দ্রুত সেতুটি সড়কের সঙ্গে সংযোগ করে চলাচলের উপযোগী করে দেওয়া জরুরি।’

খেয়াঘাটের মালিক বিদ্যুৎ হোসেন বলেন, ‘এ খেয়াঘাট দিয়ে প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ পারাপার হয়। এ স্থানে একটি ব্রীজ হবে আমাদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিলো। অবশেষে ব্রীজ নির্মাণ হয়েছে কিন্তু এখনো চলাচলের উপযোগী হয়নি।’

ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার আব্দুল মজিদ বলেন, ‘অনেক আগেই আমাদের ব্রীজের কাজ শেষ হয়েছে। তবে পূর্বপাশে ভূমি জটিলতায় সংযোগ সড়কের কাজ বন্ধ থাকায় ব্রীজ দিয়ে চলাচল বন্ধ রয়েছে। দ্রুত সমাধানের জন্য কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে।’

নওগাঁ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. বদরুদ্দোজা বলেন, ‘জমি অধিগ্রহণ জটিলতায় ব্রীজের সংযোগ সড়কের কাজটি থেমে আছে। এ কারণে চলাচল বন্ধ রয়েছে। তবে দ্রুত এ সমস্যা সমাধান হবে এবং ব্রীজটি চলাচলের উপযোগী হবে।’

এসআর
আরো দেখুন

Published by the Editor on behalf of the Observer Ltd. from Globe Printers, 24/A, New Eskaton Road, Ramna, Dhaka.
E-mail: district@dailyobserverbd.com, news@dailyobserverbd.com, advertisement@dailyobserverbd.com, For Online Edition: mailobserverbd@gmail.com
🔝