দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, মানুষের ভোটের অধিকার অধিকার প্রতিষ্ঠা ও গণতন্ত্রের জন্য আপোষহীন সংগ্রাম করায় বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দেশবন্ধু উপাধিতে ভূষিত করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)'র জার্মানি শাখা।
শনিবার জার্মানির ফ্র্যাঙ্কফুর্ট শহরে আয়োজিত বিএনপির বিজয় ও শুকরিয়া অনুষ্ঠান থেকে তারেক রহমানকে এই উপাধিতে ভূষিত করা হয়।
বিএনপির ফরেন অ্যাফেয়ার্স অ্যাডভাইজারি কমিটির সদস্য দেওয়ান শফিকুল ইসলাম যখন তারেক রহমানকে দেশবন্ধু উপাধিতে ভূষিত করেন তখন মুহুর্মুহু করতালির মাধ্যমে ও দাঁড়িয়ে উপস্থিত নেতাকর্মীরা তারেক রহমানকে অভিবাদন জানান।
এর আগে জার্মানি বিএনপির নেতারা গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপিকে বিপুল ভোটে দেশ ও প্রবাস থেকে ভোট দিয়ে জয়ী করার জন্য দলের কর্মীদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা ও কৃতজ্ঞতা জানান। সে সময় অনলাইনে যুক্ত ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন ও সড়ক পরিবহন প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব।
সভাপতির বক্তব্যে দেওয়ান শফিকুল ইসলাম বলেন, 'শহীদ জিয়া ও গণতন্ত্রের জননী খালেদা জিয়াকে অনুসরণ করে তারেক রহমান সকল শ্রেণী-পেশার মানুষের সঙ্গে মিশে তাদের খোঁজখবর নিচ্ছেন। ধীরে ধীরে তিনি হয়ে উঠেছেন জনগণেরই একজন। ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষি কার্ড বিতরণের মতো উদ্যোগের মাধ্যমে তিনি মানুষের জীবনে বাস্তব পরিবর্তন আনার প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছেন, যা ইতোমধ্যে পুরো দেশের মানুষের মধ্যে প্রভাব ফেলেছে।'
তিনি বলেন, 'তারেক রহমান তার পূর্বসূরীদের আদর্শিক পথ অনুসরণ করে গণতন্ত্র রক্ষা, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অটুট রাখার জন্য নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। এই ধারাবাহিক নেতৃত্ব ও জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতার কারণেই তিনি মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন। এ জন্যই তিনি জনগণের বন্ধু। দেশের বন্ধু। আজ থেকে আমরা বলবো, আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশবন্ধু।'
তার এ ঘোষণা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুরো অডিটোরিয়ামে উপস্থিত নেতাকর্মীরা করতালির মাধ্যমে ও দাঁড়িয়ে তারেক রহমানকে অভিবাদন ও ঘোষণাকে স্বাগত জানান।
অনুষ্ঠানে বিএনপির নেতারা তারেক রহমানের নেতৃত্ব, মানবিকতা এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে তার গভীর সম্পৃক্ততার কথা তুলে ধরেন। তারা বলেন, দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকার পরও তিনি যেভাবে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে নিজেকে সম্পৃক্ত করেছেন, তা সত্যিই বিরল ও প্রশংসনীয়।
বক্তারা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার অবদানের কথাও গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তারা বলেন, শহীদ জিয়াউর রহমান ছিলেন স্বাধীনতার ঘোষক, বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার অগ্রদূত। অপরদিকে বেগম খালেদা জিয়া গণতন্ত্রের আপসহীন নেত্রী হিসেবে দেশের সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির জার্মানি শাখার সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রেজা, বিএনপি নেতা মোজাম্মেল হক, আনিসুর রহমান শামীম, সাখাওয়াত হোসেন সোহাগ, মঞ্জু সরকার, আল আমিন রিয়াজ, সেলিম ব্যাপারী মন্ডল, জুয়েল খান, নিয়াজ হাবিব, আসিফ ইকবাল ভূঁইয়া, হায়াতুন্নবী রুমেলসহ জার্মানি বিএনপি, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতৃবৃন্দ।
এমএ