পটুয়াখালী সদর উপজেলার মরিচবুনিয়া ইউনিয়নে এক সংখ্যালঘু পরিবারের ওপর হামলা, নির্যাতন ও জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে পটুয়াখালী প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে ভুক্তভোগী গোপাল মাঝি লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, তাদের নিজস্ব রেকর্ডভুক্ত ও দখলীয় জমি দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় কিছু ব্যক্তি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করে আসছে। মৌজা মরিচবুনিয়া এলাকায় তার নামে প্রায় ৪০ শতাংশ জমি রয়েছে। এ জমি নিয়ে বিরোধের জেরে স্থানীয় কৃষক দলের সদস্য জাকির ভূইয়া, সুমন প্যাদা, নাসির আকন, হারুন মাতবর, জাফর ভূইয়া, নিজাম প্যাদা সহ কয়েকজন ব্যক্তি বিভিন্ন সময় তাকে ও তার পরিবারকে হুমকি দিয়ে আসছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ভুক্তভোগীর দাবি, থানায় অভিযোগ দেওয়ার পরও প্রতিপক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বাড়িতে এসে ভয়ভীতি সৃষ্টি করছে। এমনকি তার সন্তানদের স্কুলে যাতায়াতেও বাধা দেওয়া হচ্ছে এবং দেশ ছেড়ে ভারতে চলে যাওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও উল্লেখ করেন, গত ১৬ ফেব্রুয়ারি রাত আনুমানিক ৯টার দিকে মোটরসাইকেল চালিয়ে বাড়ি ফেরার পথে অভিযুক্তরা তাকে ঘেরাও করে মারধর করে এবং দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হত্যার চেষ্টা চালায়।
এ সময় তিনি ও তার ভাই গুরুতর আহত হন। বর্তমানে তারা পটুয়াখালী সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
অভিযোগে বলা হয়, হামলাকারীরা তার সঙ্গে থাকা নগদ ২ লাখ ২০ হাজার টাকা ও গলায় থাকা দুটি স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেয়।
গোপাল মাঝি বলেন, “আমরা সংখ্যালঘু হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্নভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছি। নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও দোষীদের শাস্তি চাই।”
অভিযোগের বিষয়ে জাকির ভূইয়া বলেন, তার জামাই সুমন প্রায় পাঁচ বছর আগে জমি ক্রয় করেছেন এবং সেই জমিতেই তারা বসতঘর নির্মাণ করেছেন। বিষয়টি স্থানীয় সালিসের মাধ্যমে মীমাংসা হয়েছিল বলেও তিনি দাবি করেন। তবে ভারতে চলে যেতে হবে—এ ধরনের কোনো হুমকি দেওয়া হয়নি বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান বলেন, “মারামারির ঘটনা আমরা জানি এবং আগে একজনকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছিল। তবে দেশ ছাড়ার হুমকির বিষয়ে আমাদের কাছে কোনো অভিযোগ আসেনি।” তিনি আরও বলেন, অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এমপি/আরএন